হ্যাঁ, আমি অন্য নারী —
বহ্নিশিখায় জেগেছে মোর আর্তনাদ।
নারী হয়েও নারীত্ব অর্জন করিতে হয়,
আমি সেই সংগ্রামেরই প্রতিবাদ।
আমি তপ্ত কাঞ্চন, লোহিতবর্ণা,
আমি তবু নারী;
দহনজ্বালা বক্ষে বহি,
তবু নহি হই পরাজিত ভারী।
আমি নারী, তুমি নারী,
আমরা সকলেই নারী;
একই স্রোতের জীবনধারা,
একই স্বপ্নের অধিকারী।
পূর্ণনারীর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে
মন উড়ে যায় দিগন্তপারে,
অচিন আলোর মৃদু আহ্বান
ডাকে আমায় বারে বারে।
হে নবীন, হে দিগম্বর,
হে পুরুষোত্তম মহীয়ান!
কেন এ দেহ, এ সত্তা আমার
তোমার চরণে করেছে প্রাণদান?
আঁধার-আলোর সন্ধিক্ষণে
দিগন্ত তোলে গোপন সুর,
অমাবস্যার গভীর নিশীথে
শুনি অনন্তের নূপুর।
তবু কেন আমার অস্তিত্ব আজ
লিখে চলে ভিন্ন কাহিনী?
কেন আজও চাহিয়া ফিরি
অপ্রকাশিত কোনো চিরচেনা ঋণী?
রূপান্তরের গভীর বেদনায়
জেগেছে অন্তর নব অনুভব,
বহু জন্মের অব্যক্ত ভাষা
হয়েছে যেন আজ সরব।
নিষ্কলঙ্ক নীলিমার মতো
স্বপ্ন মেলে সুদূর ডানা,
তবু কেন পূর্ণতার পথ
রয় আজও অজানা?
সমাজ আমায় শিক্ষা দিয়েছে,
রাষ্ট্র দিয়েছে জ্ঞান;
তবু আমার অন্তরজুড়ে
জাগে নিজস্ব পরিচয়-সন্ধান।
কত বিধান, কত সংজ্ঞা,
কত নিয়মের কঠিন দেয়াল,
তবু হৃদয়ের গভীর সত্য
ভাঙে সকল অবরোধজাল।
তুমি রূপান্তরের মহাখেলায়
গড়ো আবার ভাঙো,
নিজের অন্তর-দর্পণে
নিজেকেই নিত্য জানো।
প্রফুল্ল মুখে ফুটে ওঠো
পদ্মের পাপড়ি সম,
অন্ধকারের অন্তর ভেদি
জ্বালো চেতনার দীপ অনুপম।
লজ্জা নয়, নয় অবহেলা,
নয় কোনো গোপন ভার;
নিজের সত্যে দীপ্ত হও তুমি,
নিজের আলোয় হও উদ্ভাসিত আর।
তুমি পূর্ণ নারী, আমি নারী,
আমরা সবাই এক;
বেদনা, প্রেম, ত্যাগ আর শক্তি
একই স্রোতের অমল রেখ।
আমি নারী, তুমি নারী,
তোমরা নারী, আমরা নারী;
এই পরিচয়ে জাগুক বিশ্ব,
হোক মানবতা আলোকভারি।
বহ্নিশিখার দহন পেরিয়ে
ফুটুক নব প্রভাত,
অন্য নারী নয় আর কেহ—
নারীত্বেই হোক চিরপরিচয়।
যে নারী নিজের সত্য খুঁজে
অশ্রুতে ধৌত করে প্রাণ,
সেই নারীর চরণতলে
নত হোক যুগের অহংকার।
আমি অন্য নারী—
তাই নয় আমি ভিন্ন কেহ;
আমি সেই চিরন্তন শক্তি,
যার মাঝে জাগে সৃষ্টির গেহ।
আমি নারী,
আমি অনন্ত,
আমি অগ্নি, আমি অমৃতধারা—
আমি জীবন, আমি জাগরণ,
আমি বিশ্বজননী-স্মৃতিধারা।